অডিও প্লেয়ার
0:00 0:00
Advertisement

কেন মানুষ সহজ জিনিস জটিল করে ফেলে?

একবার এক বেদুইন রাস্তার পাশে বসে পানি খাচ্ছিল।
একজন শহুরে লোক এসে বলল,
“ভাই, তুমি পানি খাও, কিন্তু জানো কি পানির রাসায়নিক গঠন H₂O?”

বেদুইন হেসে বলল,
“আমি শুধু জানি, এটা পিপাসা মেটায়।” 😌

উপরের ঘটনায় আপনি কি বুঝলেন? 

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, আমাদের মস্তিষ্কের এক ধরনের প্রবণতা আছে —
Complexity Bias —
মানে আমরা বিশ্বাস করতে কষ্ট পাই,
যে সহজ কিছু সত্যিই কাজ করতে পারে!

যখন সমাধানটা খুব সহজ লাগে,
আমাদের মস্তিষ্ক বলে,
“না না, এত সহজে কিছু ঠিক হতে পারে না!”
তখন আমরা নিজেরাই বিষয়টাকে কঠিন করে ফেলি।

এভাবেই সহজ কাজ গুলো কঠিন মনে হতে থাকে।

 ইতিহাসও তাই বলে

রোমান দার্শনিক সেনেকা বলেছিলেন,

> “Life is very simple, but we insist on making it complicated.”

 

অর্থাৎ, জীবন আসলে খুবই সহজ,
কিন্তু মানুষ জেদ করে সেটাকে কঠিন বানায়।

সক্রেটিস বলেছিলেন,

> “সত্য কখনো জটিল নয়,
মানুষই সেটাকে ঘোলাটে করে ফেলে।”

 

আর ইসলাম?
ইসলামে তো এই কথাই হাজার বছর আগে বলা হয়েছে —

> “আল্লাহ তোমাদের জন্য ধর্মকে সহজ করে দিয়েছেন।” (সূরা আল-হজ্জ, ৭৮)
“সহজ করো, জটিল করো না।” (সহিহ বুখারি)

 

তবুও আমরা নামাজকে রীতিতে,
ভালোবাসাকে যুক্তিতে,
আর সুখকে প্রমাণে জটিল করে ফেলেছি।


এখন গবেষণার দিকে তাকাও

Stanford University-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে,
মানুষ যত বেশি শিক্ষিত হয়,
তত বেশি সে “overthinking” করে।
কারণ তারা শেখে বিশ্লেষণ করতে,
কিন্তু ভুলে যায় — সব বিশ্লেষণ করার দরকার নেই।

কখনও কখনও,
জীবনের উত্তর একটা নিঃশ্বাসের মতোই সহজ।


ইসলামী দার্শনিক ইমাম আল-গাজ্জালী (রহ.) বলেছেন,

> “জ্ঞান তখনই উপকারী,
যখন তা হৃদয়ে শান্তি আনে।”

 

অর্থাৎ, যদি জ্ঞান তোমাকে বিভ্রান্ত করে,
তবে সেটা সত্যিকারের জ্ঞান নয় —
ওটা জটিলতার জাল।

রাসুল ﷺ-এর জীবন দেখো —
তিনি সবচেয়ে সহজ মানুষ ছিলেন,
কিন্তু তাঁর সরলতা থেকেই
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিপ্লব এসেছে।


তাহলে আমরা কেন জটিল করি?

জীবন একটা নদীর মতো।
তুমি যদি জলের স্রোতে ভাসতে শেখো,
তাহলে পথ নিজেই তোমাকে গন্তব্যে নিয়ে যাবে।
কিন্তু তুমি যদি বারবার হিসাব করতে চাও —
“পানি কত দ্রুত যাচ্ছে?”,
“কোণ কত ডিগ্রি বাঁক নিচ্ছে?”
তাহলে তুমি কখনও ভাসতে পারবে না।


> “জীবন জটিল নয়,
আমরা নিজেরাই তার ওপর জটিলতা ছিটিয়ে দিই —
বুদ্ধিমত্তার নামে।”

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)
Listen
Download

Fake হাসির পেছনের মানসিক দানব 😬

তুমি কি কখনও লক্ষ্য করেছো — কেউ হাসছে, কিন্তু সেই হাসির পেছনে একটা অদ্ভুত শূন্যতা লুকানো থাকে?

হ্যাঁ, এটাই সেই Fake Smile — যেখানে ঠোঁট হাসে, কিন্তু চোখ নিঃশব্দে কাঁদে। 😶‍🌫️

মানুষের মস্তিষ্ক এমনভাবে কাজ করে যে, যখন তুমি সত্যিকারের দুঃখ লুকাও, শরীর তখনও সত্যটা জানায়। মনোবিজ্ঞান বলে — এই ভুয়া হাসির পেছনে কাজ করে এক অদৃশ্য মানসিক দানব।

💀 ১. Masking Mechanism
মানুষ যখন নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে পারে না, তখন হাসিকে ঢাল বানায়। সমাজের বিচার, প্রত্যাখ্যান বা দুর্বল দেখানোর ভয় — তাকে মিথ্যা হাসি পরতে বাধ্য করে।

🎭 ২. Psychological Exhaustion
যারা সব সময় হাসতে বাধ্য হয়, তারা ধীরে ধীরে ভিতর থেকে ফাঁপা হয়ে যায়। তাদের হাসি শুধু অন্যদের স্বস্তি দেয়, নিজের নয়।

🧠 ৩. Emotional Suppression
প্রতিদিন নিজের আবেগ চেপে রাখলে মন ধীরে ধীরে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন ভেতরের কষ্ট একসময় রাগ, সন্দেহ বা বিষণ্নতায় পরিণত হয়।

📖 ইসলাম বলেছে — “অবশ্যই অন্তরেই রয়েছে শান্তি ও অশান্তির মূল।” (সূরা আশ-শামস)

সুতরাং, যারা সব সময় “ঠিক আছি” বলে হাসে, তাদের অনেক সময় ভিতরে একটা যুদ্ধ চলে।

🤍 কখনও কখনও একটিমাত্র প্রশ্ন — “তুমি সত্যিই কেমন আছো?” — কারও ভিতরের দানবটাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

মিথ্যা হাসির আড়াল ভেদ করে দেখতে শেখো। কারণ অনেক সময় সবচেয়ে কষ্টের মানুষটাই সবচেয়ে জোরে হাসে। 💔

Fake হাসির পেছনে যে দানবটা আছে, সে হলো ভয় — মানুষ নিজের সত্যকে লুকাতে চায়। কিন্তু মুক্তি শুরু হয় তখনই, যখন তুমি মুখোশ খুলে নিজের কষ্টকে মেনে নিতে শেখো। 🌿

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)
Listen
Download

Knowledge Is Power💥

ক্ষমতা অর্জন করতে হলে নলেজ বাড়ান,
বই পড়ার কথা বলছিনা — বাস্তব জ্ঞান বাড়ান।

সাধারণ মানুষ যা জানে না, যা খোঁজ রাখে না,
আপনাকে সেই সব বিষয়ে জানতে হবে।
আপনি যাদের লিড করতে চান,
তাদের থেকে বেশি জানতে হবে —
কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি বেশি জানবেন না,
ততক্ষণ কেউ না কেউ আপনার ওপর কথা বলবেই।

আপনি যদি এমন একজন মানুষ হতে চান
যার কথা সবাই শোনে,
তাহলে আপনাকে এমন কিছু জানতে হবে
যা অন্যরা জানে না।
এই জ্ঞানই হবে আপনার অস্ত্র 🔥
এই জ্ঞানই হবে আপনার পরিচয় 💪

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)
Listen
Download

ছোট ছোট শুকরিয়া, বড় বড় শান্তি 🤲

আমরা প্রায়ই বড় কিছু পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি। একটি ভালো চাকরি, একটি বড় বাড়ি, একটি নতুন গাড়ি। কিন্তু এই অপেক্ষার ভিড়ে আমরা প্রতিদিনের ছোট ছোট নিয়ামতগুলোর জন্য শুকরিয়া আদায় করতে ভুলে যাই।

আজ সকালে সুস্থভাবে ঘুম থেকে উঠতে পারাটা কি একটি নিয়ামত নয়? তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ঠান্ডা পানি পাওয়াটা কি শুকরিয়ার কারণ নয়? পরিবারের সাথে বসে একবেলা খাবার খাওয়াটাও তো আল্লাহর এক বিশাল রহমত।

ইসলাম আমাদের শেখায়, যখন তুমি শুকরিয়া আদায় করবে, আল্লাহ তোমাকে আরও বাড়িয়ে দেবেন। শুকরিয়া শুধুমাত্র  নয়, অন্তরেও অনুভব করার বিষয়। যখন আপনি ছোট ছোট বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকতে শিখবেন, দেখবেন আপনার হৃদয় এক অবর্ণনীয় শান্তিতে ভরে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ বলুন, প্রতিটি নিঃশ্বাসের জন্য। 🌿

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)

তুমি যতটা ভাবো ততটা নির্দোষ নও — মনস্তত্ত্বের নির্মম সত্য ⚡

আমরা সবাই ভাবি — “আমি তো ভালো মানুষ”, “আমি কাউকে কষ্ট দিই না।”

কিন্তু #darkpsychology বলে — মানুষ কখনও পুরোপুরি নির্দোষ নয়। আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি হাসি, এমনকি নীরবতাও কোনো না কোনো উদ্দেশ্যের সাথে জড়িত।

🧠 ১. Hidden Intentions
মনোবিজ্ঞান বলে, মানুষ অবচেতনভাবে এমন কাজ করে যেটা তার স্বার্থ রক্ষা করে। কেউ সাহায্য করে ভালো লাগার জন্য, কেউ করে নিজের অবস্থান শক্ত করতে।

😶‍🌫️ ২. Selective Morality
আমরা যে নীতির কথা বলি, সেটাও অনেক সময় নিজের সুবিধা অনুযায়ী বদলে ফেলি। যেমন, যখন অন্য কেউ ভুল করে — আমরা বিচার করি। কিন্তু নিজের ভুলে যুক্তি খুঁজি।

💭 ৩. Self-Image Trap
আমরা নিজের সম্পর্কে একধরনের কাল্পনিক ভালো ইমেজ ধরে রাখি। কারণ সেই ভেতরের দানবটাকে স্বীকার করা কষ্টকর।

কিন্তু সত্য হলো — ভালো মানুষও কখনও খারাপ হয়, আর খারাপ মানুষও ভালো হতে পারে।

📖 কুরআনে বলা হয়েছে — “মানুষ নিজেকে সর্বদা যথার্থ মনে করে, অথচ তার ভেতরেই আছে সীমালঙ্ঘন।” (সূরা আল-আলাক)

তাই নিজেকে সৎভাবে দেখা শুরু করো। নিজের ভেতরের অন্ধকারকে অস্বীকার করো না — বরং চিনে নাও, সেটাই হবে তোমার শক্তি।

#selfawareness #psychology #mindcontrol #islamic

কারণ, যে নিজের ছায়াকে চিনে, সে-ই আলোকে ধরতে পারে। 🌑🌕

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)
Listen
Download

নিজেকে সম্মান না দিলে কেউ তোমাকে গুরুত্ব দেবে না — বাস্তব সত্য 🔥

তুমি যতই ভালো মানুষ হও না কেন, যদি নিজেকে সম্মান না দাও — মানুষ কখনও তোমাকে গুরুত্ব দেবে না।

জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো — তুমি নিজেকে যেভাবে দেখো, মানুষও তোমাকে সেভাবেই দেখে। এটা #psychology এর মূল নীতি।

🧠 ১. Boundaries মানে Ego নয়
সীমা নির্ধারণ মানে তুমি অহংকারী নও। বরং তুমি জানো, কাকে কতটা জায়গা দিতে হবে। যারা নিজের সীমা জানে না, তারা বারবার আঘাত পায়।

💬 ২. অতিরিক্ত ভালো মানুষরা ব্যবহৃত হয়
তুমি যখন সবসময় “ঠিক আছে” বলো, তখন মানুষ ধরে নেয় তুমি সবকিছু সহ্য করতে পারো। কিন্তু মনে রেখো — Respect is not begged, it’s earned.

🔥 ৩. Self-Respect মানে একাকীত্ব নয়
একা থাকা দুর্বলতা নয়, বরং এটা নিজের প্রতি সম্মানের প্রমাণ। যারা তোমাকে বারবার ভাঙে, তাদের থেকে দূরে থাকা মানে তুমি নিজের মানসিক শান্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছো।

☪️ ইসলামও আমাদের শেখায় — “যে নিজেকে অপমান করে, আল্লাহও তাকে অপমানিত করেন না।” নিজের মর্যাদা রক্ষা করা মানে আল্লাহর দানকৃত আত্মসম্মানকে রক্ষা করা।

💡 নিজের প্রতি সম্মান দেখানো মানে অহংকার নয় — এটা নিজের প্রতি দায়িত্ব। কারণ, যদি তুমি নিজেকে অবমূল্যায়ন করো, মানুষও তোমার মূল্য দেখতে পাবে না।

#selfrespect #motivation #mindset

নিজেকে ছোট করে দেখো না ভাই — তোমার মূল্য ঠিক ততটাই, যতটা তুমি নিজেকে সম্মান দিতে পারো। 🌿

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)
Listen
Download

ডার্ক সাইকোলজি — মনের অন্ধকার দিক বোঝার শিল্প 😈🧠

ডার্ক সাইকোলজি (Dark Psychology) মানে হলো — মানব মনের সেই অংশ, যেটা সাধারণত আমরা লুকিয়ে রাখি।

এটা সেই অংশ যেখানে বাস করে প্রভাব, প্রতারণা, নিয়ন্ত্রণ আর মানসিক খেলা। মানুষ যখন তার স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যের চিন্তা ও আবেগ নিয়ে খেলা করে — তখনই ডার্ক সাইকোলজি কাজ করে।

💡 মনোবিজ্ঞানী Robert Greene তাঁর বই “The 48 Laws of Power”-এ বলেছেন,
“মানুষকে বুঝতে শেখো, তাহলেই তুমি তাদের প্রভাবিত করতে পারবে।”

ইসলামও সতর্ক করেছে এই অন্ধকার প্রবণতা নিয়ে। কুরআনে বলা হয়েছে —
“নিশ্চয় শয়তান মানুষকে প্রতারণা করতে চায়, যেন সে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হয়।” (সূরা আল-আনফাল, ৮:৪৮)

তাহলে প্রশ্ন হলো — ডার্ক সাইকোলজি জানলে কি আমরা খারাপ হয়ে যাই?

না। বরং যারা এই দিকটা বোঝে, তারা বুঝতে পারে কে তাকে প্রভাবিত করছে, কে মনের ভেতর ঢুকতে চাইছে।

👉 একজন সচেতন মানুষ ডার্ক সাইকোলজি শেখে — অন্যকে কষ্ট দিতে নয়, নিজের মানসিক সুরক্ষার জন্য।

এই যুগে “মনের যুদ্ধ” বাস্তব। মানুষ অস্ত্র দিয়ে নয়, শব্দ, আচরণ ও ইমোশন দিয়ে আক্রমণ করে।

তাই নিজেকে মানসিকভাবে রক্ষা করার জন্য বুঝতে শেখো — কে কেমনভাবে তোমাকে প্রভাবিত করছে।

কারণ, যে নিজেকে বুঝে, তাকে আর কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। 🔥

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)
Listen
Download

আমরা কারো কাছে ডালভাত, আবার কারো কাছে কাচ্চি

কিছু মানুষ তোমার মূল্য বুঝবে না,
তাদের কাছে তুমি শুধু “ডালভাত”— সহজ, সাধারণ, গুরুত্বহীন। 🍛

আর কিছু মানুষ তোমাকে দেখবে “কাচ্চি বিরিয়ানি”-র মতো —
যার স্বাদ, গভীরতা, আর মান আলাদা! 🍖✨

তাই সবার কাছে নিজের দাম বোঝাতে যেও না,
যে বুঝবে — সে চুপ করেও তোমার মূল্য বুঝে নেবে। 💎

নিজের দাম নিজে জানো, কারণ সবার চোখ তোমার মতো পরিষ্কার না। 💭

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)
Listen
Download

আত্মসম্মান মানুষের চরিত্রের মেরুদণ্ড।

এটি সেই নীরব শক্তি, যা মানুষকে সৎ, দৃঢ় ও মর্যাদাবান করে তোলে। আত্মসম্মান হারিয়ে ফেললে ব্যক্তি তার মূল্যবোধ, চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব—সবই হারায়। সমাজে টিকে থাকতে, নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে এবং অন্যের সম্মান অর্জন করতে হলে প্রথমে নিজেকে সম্মান করতে জানতে হয়। আত্মসম্মান রক্ষা মানে নিজের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা, নিজের নীতি ও মর্যাদার সীমা না ভোলা। নিচে নিজের মতো করে আত্মসম্মান রক্ষা বা বাড়ানোর ১৫টি কার্যকর উপায় তুলে ধরলাম...

১. নিজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন :
নিজেকে ছোট মনে করবেন না। আপনি যেমন, তেমনভাবেই নিজেকে গ্রহণ করুন। নিজের গুণ ও সীমাবদ্ধতা—দুটোকেই সম্মান দিন।

২. ‘না’ বলতে শিখুন :
সবকিছুতেই সম্মতি দেওয়া আত্মসম্মানের ক্ষতি করে। অন্যায় বা অপমানজনক প্রস্তাবের সামনে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে পারা আত্মসম্মানের অন্যতম রূপ।

৩. নিজের মতামতকে গুরুত্ব দিন :
অন্যরা কী ভাবছে তা ভেবে নিজের মতকে চাপা দেবেন না। আত্মসম্মান রক্ষার প্রথম শর্ত হলো নিজের চিন্তার প্রতি আস্থা রাখা।

৪. অন্যের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে যাবেন না :
নিজেকে সবসময় সঠিক প্রমাণ করতে গিয়ে ক্লান্ত হবেন না। যারা সত্যিকার অর্থে আপনাকে বোঝে, তাদের কাছে প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না।

৫. নিজের ভুল স্বীকার করুন :
ভুল করলে তা স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং আত্মসম্মানের প্রতীক। নিজের ভুল জানা মানুষই সত্যিকার সম্মান পায়।

৬. অপমানকে কখনো সহ্য করবেন না :
যেখানে আপনাকে অবমাননা করা হয়, সেখান থেকে দূরে সরে আসুন। অপমানের সাথে আপস করা মানে নিজের মর্যাদা হারানো।

৭. আত্মবিশ্বাসী থাকুন :
আত্মসম্মান আসে আত্মবিশ্বাস থেকে। নিজের সিদ্ধান্ত ও কাজের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন, তাহলেই আপনি সম্মান রক্ষা করতে পারবেন।

৮. অন্যকে সম্মান দিন :
অন্যকে অসম্মান করে কেউ নিজের মর্যাদা বাড়াতে পারে না। সম্মান পেতে হলে আগে দিতে জানতে হয়।

৯. নিজের সীমারেখা নির্ধারণ করুন :
মানুষকে কতটা কাছে টানবেন বা দূরে রাখবেন, সেটি আপনিই ঠিক করুন। এই সীমারেখাই আত্মসম্মানের রক্ষাকবচ।

১০. কারও উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হবেন না :
অতিরিক্ত নির্ভরতা আত্মসম্মানকে দুর্বল করে। নিজে নিজের কাজ করার চেষ্টা করুন, আত্মনির্ভর হোন।

১১. সত্য কথা বলুন, মিথ্যার আশ্রয় নেবেন না :
মিথ্যা একদিন প্রকাশ পায়, আর তখন আত্মসম্মান ভেঙে পড়ে। সত্যকে আঁকড়ে ধরা মানুষই মর্যাদা ধরে রাখতে পারে।

১২. অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না :
নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা আত্মসম্মান নষ্ট করে। আপনি অনন্য—এই বিশ্বাসটিই আপনাকে শক্ত রাখবে।

১৩. লোভ ও প্রতারণা থেকে দূরে থাকুন :
লোভ মানুষকে নিচে নামায়। সততা আত্মসম্মানের সবচেয়ে বড় ভিত্তি। তাই প্রলোভনে নয়, ন্যায়ের পথে চলুন।

১৪. নিজের আবেগের নিয়ন্ত্রণ রাখুন :
অতিরিক্ত রাগ, হিংসা বা হীনমন্যতা আত্মসম্মান ক্ষয় করে। সংযমী মনই আত্মসম্মানকে টিকিয়ে রাখে।

১৫. নিজের উন্নতির জন্য চেষ্টা করুন :
আত্মসম্মান মানে স্থবির থাকা নয়। প্রতিনিয়ত শেখা, বেড়ে ওঠা, নিজের যোগ্যতা বাড়ানোই আত্মসম্মানের প্রকৃত বিকাশ।

আত্মসম্মান কোনো বাহ্যিক বস্তু নয়, এটি এক অভ্যন্তরীণ শক্তি—যা মানুষকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখায়। অর্থ, খ্যাতি বা সৌন্দর্যের চেয়ে আত্মসম্মান অনেক মূল্যবান। যে ব্যক্তি নিজের মর্যাদা বোঝে, সে কখনো অন্যের দ্বারা অপমানিত হয় না। তাই সমাজে সম্মান পেতে হলে আগে নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করতে শিখতে হবে—কারণ যে নিজেকে সম্মান করতে জানে, পৃথিবীও তাকে সম্মান দিতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)

ইগনোর করলে জীবন সুন্দর 🥰

আপনাকে জীবনে অনেক মানুষ অনেক রকম বড় বড় স্কিল শিখতে বলবে। আমি একটা ছোট্ট স্কিল শিখতে বলি। এই স্কিলটার নাম হচ্ছে 'পাত্তা না দেয়া'। সুন্দর করে বলতে গেলে বলে 'ইগনোর' করা। ধরুন কেউ আপনার লিঙ্গ, বর্ণ, বিশ্বাস বা যেকোনো কিছু নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করল। ধরুন, ৪-৫ মিনিট ধরে কেউ টানা লেকচার দিল কেন তার কথা যৌক্তিক এবং আপনারটা ভুল। ধরুন, কেউ আপনাকে ইনিয়ে বিনিয়ে বা সরাসরি পচানোর চেষ্টা করছে। চেষ্টা করছে অযথা অযৌক্তিক তর্কে জড়ানোর। আপনি কী করবেন? উত্তর হচ্ছে কিছুই না। একদম পাত্তাই দিবেন না।
দুনিয়ার সবাইকে, সবকিছুকে গোণায় ধরতে হয় না। আজাইরা মানুষ, আজাইরা মন্তব্য সবকিছুকে এড়িয়ে গিয়ে কেবল নিজের কাজে ফোকাস করতে হবে। একটা বাক্য দূরে থাক, একটা শব্দ উচ্চারণ করেও সময় নষ্ট করার দরকার নাই।
পাত্তা না দেয়া একটা আর্ট। 'পারফেক্ট' হওয়ার দরকার নাই; মাঝারি মানের আর্টিস্ট হতে পারলেই জীবন অনেক ঝামেলামুক্ত হয়ে যাবে।

 
আরও পড়ুন... Post Image
Comment(0)
Listen
Download
Advertisement